ইসলাম ও ইসলামী শরিয়তের প্রতি মানুষের মনোভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানুষ সাধারণত ৬টি শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রত্যেক শ্রেণির আছে আলাদা পরিচয়, আলাদা অবস্থান এবং আলাদা আখিরাতের পরিণতি।


নিজেকে চিনবার জন্য এই শ্রেণিবিন্যাস খুবই জরুরি।


১. যারা মানতে চায়, কিন্তু পারছে না

অন্তরে আছে আকাঙ্ক্ষা, আছে ভালোবাসা। কিন্তু দুর্বলতা, গাফেলতি কিংবা পরিবেশের চাপে পুরোপুরি মানা হয়ে ওঠে না।

বিধান : এরা গুনাহগার, কিন্তু বিদ্রোহী নয়। আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত এদের জন্য খোলা। শর্ত শুধু একটাই—চেষ্টা থামানো যাবে না।


ad

২. যারা শরিয়া নিজে মানে, কিন্তু কায়েমে অপারগ

নিজের জীবনে শরিয়া মানে। কিন্তু সমাজ বা রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার শক্তি কিংবা সুযোগ নেই।

বিধান : এই শ্রেণি মুক্তিপ্রাপ্ত হতে পারে—যদি অন্তরে ইচ্ছা থাকে, আর সুযোগ পেলে কাজে নামতে দ্বিধা না করে।


৩. যারা মানতেই চায় না

তাদের কাছে ইসলামী শরিয়া বোঝা। ‘ব্যাকডেটেড’, ‘গোঁড়ামি’, ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’—এমন শব্দে বিদ্রূপ করে।

বিধান : এদের ঈমান মারাত্মক ঝুঁকিতে। সরাসরি শরিয়া অস্বীকার করলে কুফরির গহ্বরে পতন অনিবার্য।


৪. যারা বাধা দেয়

নিজে মানে না—এটাই শেষ নয়। যারা মানতে চায়, তাদের পথেও কাঁটা বিছায়। মিডিয়া, আইন ও মতাদর্শ দিয়ে দমন চালায়।

বিধান : এরা কার্যত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। স্পষ্ট শরিয়াবিরোধিতা কুফরি ও নিফাক—দুটোরই ভয়ংকর সম্ভাবনা তৈরি করে।


৫. যারা শরিয়া বিকৃত করে

মুখে বলে—আমরা মুসলিম। কিন্তু শরিয়াকে ‘উদারতা’, ‘প্রগতি’, ‘মানবাধিকার’-এর নামে নিজেদের মতো বানিয়ে নেয়।

বিধান : এরা তাহরিফ বা বিকৃতকারী—আল্লাহর কিতাব বিকৃতকারীদের কাতারে দাঁড়ায়। অপরাধ জঘন্য, পরিণতি ভয়াবহ—কুফরের কিনারায় ঘোরাফেরা।


৬. যারা শরিয়া আঁকড়ে ধরে এবং প্রতিষ্ঠা করতে চায়

নিজের জীবনে ইসলামী শরিয়া মানে। সমাজ ও রাষ্ট্রেও তা কায়েম করতে চায়। দাওয়াত দেয়, কষ্ট সহ্য করে, জুলুমের সামনে দাঁড়িয়ে যায়।

বিধান : এরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা। নবী-রাসুলদের উত্তরসূরি। ইসলামের প্রকৃত দাঈ ও মুজাহিদ।

এই ছয় শ্রেণির ভেতর আপনি-আমি সবাই কোথাও না কোথাও অবস্থান করছি।

প্রশ্ন একটাই—

আপনি কোন শ্রেণিতে?

নিজেকে খুঁজে নিন, আজই।